Taripue rahman family card 2026 একটি নতুন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যা বিএনপি ক্ষমতায় এসে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই তারেক রাহমানের ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম ২০২৬ সালে চালু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ঘোষণা করেছে যে এই কার্ড পাইলট পর্যায়ে ঈদের আগে দেশে চালু করা হবে এবং পাঁচ কোটি পরিবারকে এতে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে পাঁচ কোটি দরিদ্র পরিবার দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড পাবে বলে জানা গেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন নিশ্চিত করেছেন, এই কার্ড ধাপে ধাপে বিতরণ করা হবে; প্রথমে হতদরিদ্র পরিবার এবং নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ফ্যামিলি কার্ড মূলত একটি বিশেষ ডেটাবেসভিত্তিক কার্ড হবে। সরকারি তথ্য অনুসারে, প্রতিটি পেশাদার ও শ্রমজীবী পরিবার এই কার্ডের জন্য যোগ্যতা যাচাই করা হবে এবং নির্বাচিত পরিবারগুলো নিয়মিত সরকারি আর্থিক সহায়তা পাবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে নগদ অর্থ বা ভিজিবল সহায়তা সরাসরি পরিবারের গৃহকর্ত্রী বা নারী সদস্যের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে নারীর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জেডএম জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেছেন, অন্যান্য ভাতার তুলনায় ফ্যামিলি কার্ডের টাকা অন্তত দ্বিগুণ হবে, যা খুব দরিদ্র পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডে এর জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে? সরকার এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে ধাপে ধাপে কাজ করছে। প্রথম পর্যায়ে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ভাতার পরিমাণ এবং নীতিমালা চূড়ান্ত করবে। এরপর পাইলট প্রকল্প শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করা হবে। অতঃপর পর্যায়ক্রমে সব উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এটি সম্প্রসারিত হবে। প্রথম দিকে নির্দিষ্ট ৮টি বিভাগের ৮টি উপজেলার মানুষের মাঝে পরীক্ষা হিসেবে Family card কার্যক্রম চালু হবে। সম্প্রতি সরকার একটি ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে যা এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ডিজাইন এবং সুবিধাভোগীদের নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ করবে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঈদের আগেই এই পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি কমিটির একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই কার্ডের আবেদন পদ্ধতিও ধীরে ধীরে চালু হবে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে আবেদন ফর্ম পাওয়া যাবে এবং সরকারের একটি অনলাইন পোর্টালও চালু করার প্রস্তুতি চলছে। মাননীয় তথ্যমন্ত্রীর ভাষ্যে, পরিবার থেকে শুধুমাত্র একজন, সাধারণত পরিবারের গৃহকর্ত্রী, আবেদন করবেন। আবেদন করতে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং সচল মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে। একেকটি পরিবারকে একটি মাত্র কার্ড দেওয়া হবে। taripue rahman family card পাওয়ার পর মাসিক নগদ সহায়তা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুবিধা ঐ কার্ডের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।
নতুন এ উদ্যোগ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দরিদ্র, বিত্তহীন পরিবারের জন্য আশার আলো বয়ে আনবে। মনে রাখা প্রয়োজন যে, ফ্যামিলি কার্ড কোনো কাগজের টুকরো নয়; এটি দরিদ্রদের জন্য বিশেষ এক কার্ড যেটি সরকারের ওয়ার্কশপ ও গ্রাম পর্যায়ে সরাসরি বিতরণ করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রামের বাসিন্দা চাঁদাবাবু প্রতি দিন মজুরির কাজ করেন; অল্প আয় হলেও এই কার্ড তার পরিবারকে মাস শেষে নগদ আয়ের সাহায্য দেবে। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভাতা জোগাড় করতেও সমস্যায় ভোগেন কিন্তু ফ্যামিলি কার্ডে অগ্রাধিকার পেলে ঈদের আগে পরিবারের হাতে নগদ টাকা পৌঁছে গেলে তাদের খুব উপকার হবে। এই বাস্তব জীবনের উদাহরণ ফ্যামিলি কার্ডের প্রয়োজনীয়তা পরিষ্কার করে।
এটি দারিদ্র্য বিমোচনে ডিজিটাল মিশন বলেও সংজ্ঞায়িত করা যায়। টিসিবি (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) এর মাধ্যমে আগে যে রেশনিং কার্ডের ব্যবস্থা ছিল, এখন Family card সেই কাঠামোকে ডিজিটাল করার চেষ্টা। ভবিষ্যতে হয়তো “টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন” এর মতো অপশন আসতে পারে, যেখানে ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করে এই কার্ড পাওয়া যাবে। তবে আপাতত আবেদন শুরু হলে স্থানীয় ইউনিয়ন বা পৌর কার্যালয় থেকে তথ্য নেয়ার কথা বলা হচ্ছে। মাননীয় তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের স্বার্থে সুবিধা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে আবেদনপত্র গ্রহণ পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনতে এনআইডি এবং মোবাইল ভেরিফিকেশন ব্যবহার করা হবে।
বর্তমানে এই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। যেমন, এটা কবে থেকে পাওয়া যাবে বা কীভাবে দেওয়া হবে? তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার সব স্তরে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দ্রুত প্রকল্প চালু করছে। প্রথম পর্যায়ে আট বিভাগে পাইলট প্রজেক্ট শুরু এবং ঈদের আগে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে ধীরে ধীরে সকল দরিদ্র পরিবার এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। ভ্যাটার পরিমাণ নির্ধারণ হলে সেটি দ্রুত জনগণের হাতে পৌছে দিতে উদ্বুদ্ধ সরকারের একগুঁয়ে প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে।


