Real Madrid vs Osasuna ম্যাচকে ঘিরে ভক্তদের উত্তেজনা ছিল অন্য রকম। কারণ এটি শুধু একটি মৌসুমের প্রথম খেলা নয়, বরং এটি ছিল নতুন কোচ জাবি আলোনসোর আনুষ্ঠানিক অভিষেক। অনেক দিন ধরে আলোচনায় ছিলেন আলোনসো খেলোয়াড় হিসেবে তার কৃতিত্ব সবাই জানে, কিন্তু কোচ হিসেবে তিনি কী করতে পারেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিল পুরো ফুটবল দুনিয়ার রিয়াল মাদ্রির বক্তদের। ম্যাচের আগে থেকেই মাদ্রিদ সমর্থকরা ভরসা রেখেছিলেন তার ওপর, আর ওসাসোনা সমর্থকেরা আশা করেছিলেন অন্তত একটি ড্র করলেও সেটি হবে বড় সাফল্য।
প্রথম থেকেই খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণে নেয় রিয়াল। বলের দখল বেশিরভাগ সময়েই ছিল তাদের হাতে। মিডফিল্ডে টচুয়ামেনি ও ভ্যালভার্দে ছিলেন সক্রিয়, তবে ওসাসোনার রক্ষণভাগও ছিল বেশ গোছানো। তাদের খেলোয়াড়েরা স্পষ্টভাবে নির্দেশনা নিয়ে নামেন কোনোভাবেই যেন মাদ্রিদের আক্রমণকারীরা সহজে গোল করতে না পারে। খেলার প্রথমার্ধ তাই কেটেছে মূলত লড়াই আর প্রতিরোধের গল্পে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নাটকীয়তা। এক আক্রমণভাগে বল কন্ট্রোল করতে গিয়ে ফাউল করেন ওসাসোনার এক ডিফেন্ডার। রেফারি দ্বিধা না করেই পেনাল্টির নির্দেশ দেন। এই মুহূর্তেই মাঠ যেন স্তব্ধ হয়ে যায়, কারণ দর্শকেরা অপেক্ষায় ছিলেন কে নেবেন সেই দায়িত্ব? উত্তরটা খুব সহজ ছিল। নতুন তারকা, নতুন স্বপ্ন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিনি ঠান্ডা মাথায় শট নিলেন, আর গোলকিপারকে ভুল পথে পাঠিয়ে বল জালে পাঠালেন। এভাবেই real madrid vs osasuna ম্যাচে আসে একমাত্র গোল, যা নির্ধারণ করে জয়-পরাজয়ের গল্প।
গোল করার পর এমবাপ্পের উদযাপন ছিল সংযত, কিন্তু তার চোখে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল আত্মবিশ্বাস। তিনি যেন সবাইকে বলতে চাইছিলেন, “আমি এসেছি, আমি পারব, আর আমি এই ক্লাবের হয়ে ইতিহাস গড়ব।” মাদ্রিদের দর্শকেরা তখন দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছিলেন, আর অনেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও করে নিচ্ছিলেন এই বিশেষ মুহূর্ত চিত্র।
আলোনসোর কোচিংয়ে প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়ায় তার জন্য এটি একটি স্বস্তির মুহূর্ত। তিনি ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা আজ ভালো খেলেছি, যদিও নিখুঁত হয়নি। তবে নতুন খেলোয়াড়েরা চাপ সামলেছে দারুণভাবে। এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের নয়, এটি আত্মবিশ্বাসের জয়।” তার কথায় বোঝা গেল, তিনি চান দীর্ঘ মৌসুমে দলকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিতে।
এই ম্যাচে সবচেয়ে আলোচনায় ছিলেন তরুণ মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো মাসতান্তুয়ানো। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি মূল একাদশে জায়গা পেয়েছেন, আর নিজের উপস্থিতি দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন। ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে স্প্যানিশ সাংবাদিক টোমাস রনসেরো লিখেছেন, “তার মধ্যে বড় তারকা হওয়ার সব উপাদান রয়েছে।” আলোনসোও প্রশংসা করে বলেছেন, “সে মনোযোগী, শান্ত এবং দলকে সাহায্য করতে জানে।” মাদ্রিদে তরুণ প্রতিভারা কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, সেটি এই খেলাতেই স্পষ্ট হলো।
রক্ষণভাগে দানি কারভাহাল ছিলেন আলাদা আলোচনায়। অনেক দিন পর চোট কাটিয়ে তিনি ফিরেছেন মাঠে। তার প্রতিটি দৌড়, প্রতিটি ট্যাকল প্রমাণ করেছে, কেন তিনি এখনো দলের জন্য এতটা অপরিহার্য। অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তার নেতৃত্ব পুরো রক্ষণভাগকে দৃঢ় করেছে। মিলিতাও এবং হুইখসেনও ভালো খেলেছেন, ফলে ওসাসোনা খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
ওসাসোনার খেলোয়াড়েরা অবশ্য হাল ছেড়ে দেননি। দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের চেষ্টা করেছিলেন তারা। তবে গোলরক্ষক কুর্তোয়া চোটের কারণে বাইরে থাকলেও তার বিকল্প গোলকিপার ঠিকই দায়িত্ব সামলেছেন। কয়েকটি মুহূর্তে মনে হয়েছিল, হয়তো সমতায় ফিরবে ওসাসোনা, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এতে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের গতি কমে যায় এবং রিয়াল মাদ্রিদ নিশ্চিত করে তিন পয়েন্ট।
এই জয়ের ফলে রিয়াল মাদ্রিদ আবারও নতুন মৌসুমের শুরুটা করেছে অপরাজিত থেকে। গত ১৭ মৌসুমে তারা একবারও হারের মাধ্যমে লিগ শুরু করেনি, যা সত্যিই একটি অসাধারণ রেকর্ড। সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “real madrid today match” সার্চ করে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন দলকে। কেউ লিখেছেন, “এমবাপ্পে মানেই পার্থক্য”, কেউ আবার বলেছেন, “আলোনসোর হাত ধরেই আসবে নতুন এক যুগ।”

লা লিগা টেবিলে রিয়ালের অবস্থান এখন বেশ ভালো। তবে মৌসুম অনেক দীর্ঘ, আর সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ রিয়াল ওভিয়েদো। সে ম্যাচে আলোনসো কী পরিবর্তন আনেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। অন্যদিকে, ওসাসোনা খেলবে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে। তারা যদি রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারে, তবে প্রতিপক্ষকে কঠিন সময় দিতে পারবে।
খেলার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাদ্রিদের আক্রমণভাগে এমবাপ্পে ছাড়া ভিনিসিউস জুনিয়র ততটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। তিনি অবশ্য প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বারবার চাপে ফেলেছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফিনিশিংয়ে কিছুটা ঘাটতি ছিল। রদ্রিগোও মাঝেমধ্যে উজ্জ্বল ছিলেন, তবে পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেননি। হয়তো মৌসুম এগোলে তারা নিজেদের ফর্ম ফিরে পাবেন।
অন্যদিকে, মিডফিল্ডে ভ্যালভার্দে ছিলেন নিরলস কর্মঠ। তিনি পুরো মাঠজুড়ে ছুটেছেন, ট্যাকল করেছেন, পাস বিতরণ করেছেন। টচুয়ামেনি রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে স্থিতি দিয়েছেন। এ দুইজনের সমন্বয়ে মাদ্রিদ অনেকটা এগিয়ে থেকেছে। ম্যাচের পরে অনেকে বলছেন, “real madrid vs ca osasuna timeline” আসলে ছিল ভ্যালভার্দের ঘাম আর এমবাপ্পের গোলের গল্প।
সামগ্রিকভাবে real madrid vs osasuna ম্যাচটি নতুন মৌসুমের জন্য একটি ভালো সূচনা। একদিকে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়েরা ফর্মে ফিরছেন, অন্যদিকে তরুণ প্রতিভারা নিজেদের মেলে ধরছেন। সবচেয়ে বড় কথা, এমবাপ্পে তার প্রথম লা লিগা ম্যাচেই গোল করে সমর্থকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। ফুটবল বিশ্ব জানে, তার দিকে এখন সবার চোখ।
রিয়াল মাদ্রিদের ভক্তরা এখন আশা করছেন, এই জয় হবে অনেক বড় কিছুর শুরু। লা লিগার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগও আছে তাদের লক্ষ্য। আলোনসোর কৌশল, এমবাপ্পের জাদু আর দলের সামগ্রিক ঐক্য যদি বজায় থাকে, তবে এই মৌসুমে রিয়াল আবারও শিরোপার দাবিদার হয়ে উঠবে।
